Header Ads

Header ADS

রুকুতে যাওয়ার পদ্ধতি

 সালাত বাংলা//

রুকুতে যাওয়ার পদ্ধতি

২২. রুকুতে যাওয়ার পদ্ধতি: রুকুতে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (স.) পুনরায় দু’হাত কাঁধ বা কান বরাবর উঠাতেন। রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় সাহাবায়ে কেরামও এভাবে দু'হাত উঠাতেন। (বুখারী: ৭৩৬-৭৩৮, ইফা ৭০০-৭০২, আধুনিক ৬৯২৬৯৪, মুসলিম: ৩৯১)


২৩. রুকুর পদ্ধতি: রুকুতে রাসূলুল্লাহ (স.) হাঁটুতে হাত রাখতেন এবং তাঁর পিঠ সোজা রাখতেন। অর্থাৎ মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত তাঁর পিঠটা মাটির সমান্তরালে এমন সোজা করে রাখতেন, যার উপর পানি রাখলেও ঐ পানি সমান উচ্চতায় স্থির হয়ে থাকবে।(ইবনে মাজাহ: ৮৭২)

২৪. রুকু অবস্থায় হাত রাখার নিয়ম: হাঁটুতে হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁক ফাঁক করে রাখবে।(আবূ দাউদ: ৭৩১)

২৫. রুকুর তাসবীহ: রুকুতে তিনি (ক) নিমোক্ত তাসবীহ তিন বা ততোধিক বার পাঠ করতেন, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম ‘আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।' (খ) তিনি কখনো কখনো রুকুতে এ দু'আও পড়তেন, ‘‘সুবহানা যিল্ জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল ‘আযমাতি’’
“হে দুর্দান্ত প্রতাপশালী, রাজত্ব, অহংকার ও বড়ত্বের মালিক আল্লাহ! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি।” (আবু দাউদ: ৮৭৩) যে ব্যক্তি রুকু ও সিজদা পরিপূর্ণভাবে আদায় করে না রাসূলুল্লাহ (স.) ঐ ব্যক্তিকে সালাত চোর বলে আখ্যায়িত করেছেন। (ইবনু আবী শাইবা- ১/৮৯/২)

বুখারীতে আছে, বিশিষ্ট সাহাবী হুযাইফা (রা.) একবার দেখলেন যে, এক ব্যক্তি তার সালাতে রুকু সিজদা ঠিকমত আদায় করছে না। তখন তাকে তিনি বললেন, যদি তুমি এভাবে সালাত আদায় করতে থাক আর এ অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তাহলে সে মৃত্যু হবে মুহাম্মদ (স.)-এর তরীকার বাইরে। (বুখারী: ৩৮৯, ইফা ৩৮২, আধুনিক ৩৭৬) অপর এক হাদীসে এসেছে- রুকূ সিজদা ঠিকমতো আদায় না করলে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আদর্শ হতে বিচ্যুত অবস্থায় তুমি মারা যাবে।(বুখারী: ৭৯১, ইফা ৭৫৫, আধুনিক ৭৪৭)

২৬. রুকু থেকে উঠার নিয়ম: অতঃপর রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময়ও রাসূলুল্লাহ (স.) তাকবীরে তাহরীমার মতোই তাঁর দু'হাত কাঁধ (বা কান) বরাবর উঠাতেন। এ কাজকে আরবীতে ‘রাফউল ইয়াদাইন' বলা হয়। তবে সিজদা করার সময় রাফউল ইয়াদাইন’ করতেন না। (বুখারী: ৭৩৫, ইফা ৬৯৯, আধুনিক ৬৯১; মুসলিম: ৩৯০) রাসূলুল্লাহ (স.) তাঁর নামাযে ‘রাফউল ইয়াদাইন’ করতেন- এ মর্মে ৩৩টির মতো সহীহ হাদীস রয়েছে। তাছাড়াও ইমাম বুখারী (র.) তাঁর সংকলিত ‘জুযউ রাফয়িল ইয়াদাইন' গ্রন্থে এর পক্ষে সহীহ ও যঈফ মিলিয়ে মোট ১৯৮টি হাদীস জমা করেছেন।
উল্লেখ্য যে, যারা রাফউল ইয়াদাইন করে না তাদের পক্ষেও দলীল আছে। সেটি সাহাবী ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তবে এর সংখ্যা মাত্র একটি। আর দুর্বল হাদীস ও সহীহ আছার মিলিয়ে এর পক্ষে আরো ৪/৫টি বর্ণনা পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে ‘রাফউল ইয়াদাইনের পক্ষের হাদীসের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। এগুলোর শুদ্ধতাও বেশি। অতএব এই আমল করলে সাওয়াবও অনেক বেশি হবে, ইনশাআল্লাহ। ইমাম আবু হানীফা (র) বলেছেন, হাদীস সহীহ হলে এটাই আমার মাযহাব। অতএব, হানাফী হলেও এমন একটা সুন্নাত আমলের মধ্যে মাযহাবের কোন সমস্যা নেই। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (র) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (স.) আজীবন রাফউল ইয়াদাইন করেছেন (যাদুল মাআদ)। অতএব, বিষয়টি নিয়ে একে অপরকে কটাক্ষ না করি, খড়গহস্ত না হই। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যাবৎ ‘রাফউল ইয়াদাইনে অভ্যস্ত নয় তারাও মনে দ্বিধা-সংকোচ না রেখে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর মহব্বতে এ সুন্নাতটি আমল করা উচিত।

২৭. কাওমার সময়: রুকু থেকে উঠার নাম কাওমা। রুকুতে রাসূলুল্লাহ (স.) যে পরিমাণ সময় ব্যয় করতেন রুকু থেকে উঠেও তিনি প্রায় সেই পরিমাণ বা তার কাছাকাছি সময় পরিপূর্ণ সোজা হয়ে (স্থিরভাবে) দাঁড়িয়ে থাকতেন। (বুখারী: ৭৯২, ইফা ৭৫৬, আধুনিক ৭৪৮)। অনেকেই রুকু থেকে সোজা হয়ে পরিপূর্ণভাবে দাঁড়ানোর আগেই সিজদায় চলে যান। এতে একটি ওয়াজিব বাদ পড়ে যায়। এটি বহুল প্রচলিত একটি মারাত্মক ভুল। অথচ আনাস ইবনে মালেক (রা) একবার নবী (স.)-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি দেখাতে গিয়ে তিনি যখন রুকু থেকে মাথা উঠালেন তখন (এত দীর্ঘ সময়) দাঁড়িয়ে রইলেন যে, অন্যরা মনে করল তিনি (বোধহয় সিজদার কথা) ভুলেই গিয়েছেন। এভাবে ধীরস্থিরভাবে রাসূলুল্লাহ (স.) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম সালাত আদায় করতেন। রাসূলুল্লাহ (স) ইমাম হয়ে বা একাকী সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে রুকু থেকে মাথা উঠানোর সময় তিনি বলতেন, সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা “যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার কথা শুনেছেন।' (বুখারী ৭৮৯, ইফা ৭৫৩)


২৮. রুকু হতে উঠার পর দুআ

ক. রুকূ থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় ইমাম, মুক্তাদি ও একাকী সালাত আদায়কারী সকলেই বলতেন, রাব্বানা লাকাল হামদ , “হে আমাদের রব! তোমারই জন্য সকল প্রশংসা।” (বুখারী: ৭৪৫)।

খ. অথবা বলতেন, রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু, হামদান কাছীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি

“হে আমাদের রব! তোমারই জন্য অধিক বরকতময় ও উত্তম প্রশংসা।” (বুখারী: ৭৯৯, ইফা ৭৬৩, আধুনিক ৭৫৫) উপরোক্ত দু'আটির ব্যাপারে একবার রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আমি দেখলাম এ দু'আ পাঠের সাওয়াব (এত বেশি যে, পাঠকের আমলনামায় তা) কে আগে লিখবে এ নিয়ে ৩০ জনের অধিক ফেরেশতা প্রতিযোগিতায় লেগে গেছে।(বুখারী: ৭৯৯, ইফা ৭৬৩, আধুনিক ৭৫৫)

গ. রাব্বানা লাকাল হামদ' বলার পর নবী (স) কখনো এ দু'আটিও পড়তেন
মিল’আস সামা-ওয়া-তি ওয়া মিল’আল আরদি ওয়ামা বাইনাহুমা, ও মিল’আ মা শি’তা মিন শাইয়িন বা‘দু

ঘ. মাঝে মধ্যে এর সাথে আরও কিছু বৃদ্ধি করে বলতেন,
আহলাস সানা-য়ি ওয়াল মাজদি, আহাক্কু মা ক্বালাল ‘আবদু, ওয়া কুল্লুনা লাকা ‘আবদুন, আল্লা-হুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘ত্বাইতা, ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘য়ু যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, এ দুআগুলো পড়ার সময় পর্যন্ত দেরি করা কাওমার সময় বলে বিবেচিত হবে। এ দুআগুলো পাঠ করলে কাউমার (রুকূর পর স্থির হয়ে দাঁড়ানোর) হকও আদায় হয়ে যাবে।

No comments

Powered by Blogger.